সেই সাহসী কন্যা শতাব্দীর জন্য এলো বিআরটিসি বাস

0
Loading...

মন্ত্রী ভাবতেই পারেননি ওইটুকু একটি ছোট মেয়ে অমন সাহস নিয়ে তার কাছে চলে আসতে পারে, তাও আবার দাবি নিয়ে। সাহসী কন্যা শতাব্দী, দশম শ্রেণীর এই ছাত্রী স্কুলের যাতায়াতে নিদারুণ কষ্টের কথা খুব সাহস করেই গতকাল তুলে ধরেছিলো মন্ত্রীর কাছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে মিটারবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিদর্শনে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যান সড়ক পরিবহন পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অপরদিকে স্কুল যাবার সময় বাস না পেয়ে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শামসুন্নাহার শতাব্দী। যাওয়ার সময় রাস্তায় দেখলো মন্ত্রীকে। সেখানেই সাহস নিয়ে বহু কষ্টে মন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললো, ‘মিনিস্টার ওবায়দুল কাদের! আই হ্যাভ এ কোয়েশ্চেন!’

এমন এক পরিস্থিতিতে স্কুল ছাত্রীর প্রশ্নে রীতিমত ‘হতবাক’ হয়ে যান মন্ত্রী। উল্টো মন্ত্রী সেই মেয়েটিকে প্রশ্ন করলেন – ‘হোয়াট ইজ ইয়োর কোয়েশ্চেন। আর ইউ জার্নালিস্ট!’ সাথে সাথে মেয়েটির উত্তর দিল- ‘নো! আই এম এ স্টুডেন্ট।’ মন্ত্রী মেয়েটির সাহস আর কথা বলার শক্তি দেখে অভিভূত হয়ে প্রশ্ন করতে সাদরে সায় দিলেন।

মেয়েটি বললো, ‘আমি যখন স্কুলে আসি তখন ‘গুলিস্তান-আব্দুল্লাপুর ১২৩’ বাসগুলো মহিলা সিট নেই বলে উঠতে দেয় না। কন্ডাক্টররা বলেন, ‘আপনাদের উঠতে দেয়া যাবে না। তখন স্কুলে আসতে দেরি হয়ে যায়। আবার একইভাবে বাসায় ফিরতেও দেরি হয়। কখনো কখনো ক্লাসও মিস হয়।

তাহলে মহিলাদের জন্য আলাদা বাসের কি প্রয়োজন নেই?-মেয়েটির প্রশ্ন এটাই। তখন মন্ত্রী বলেন, মহিলাদের জন্য বিআরটিসির আলাদা বাস আছে। তুমি কোথা থেকে কোথায় স্কুলে যাও।

মেয়েটি বললো শেওড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এমইএস পর্যন্ত। মন্ত্রী মেয়েটির কাছ থেকে তার স্কুলে যাওয়ার সময় জেনে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশ দিলেন, রোববার থেকে সকাল সোয়া ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বিআরটিসির বাস এখানে থাকবে। মন্ত্রীর মুহুর্তের সমাধানে মেয়েটি আনন্দে মন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে যায়।

মন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী সে ও তার অনেক বন্ধু হাজির। চলে অপেক্ষার পালা। না, কথা রাখলেন মন্ত্রী, ঠিক সকাল ৬টায় বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস এসে হাজির।

মহিলাদের উঠতে দেওয়া যাবে না’, ‘মহিলা আসন খালি নেই’- প্রতিদিনের এমন অবজ্ঞা আজ আর শুনতে হয়নি। বরং বাসটাই অপেক্ষা করছিল মহিলাদের/নারীদের জন্য। সে বাসে প্রথমে শতাব্দী নামের সেই মেয়ে এবং তারপরে একে একে স্কুলগামী অন্য মেয়েরা উঠলো। পরে বাস ছুটে চললো।

আজ রোববার ভোর ঠিক সাড়ে ৬টায় শেওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে বাসটি। এতে একই সঙ্গে অবসান হয় শতাব্দীর মতো শত শত মেয়ের কষ্ট। এখন থেকে এই বাস প্রতিদিন চলবে। শেওড়া থেকে মহাখালী পর্যন্ত মহিলা বাস সার্ভিস নামে সরকারের বিশেষ এই বাস সেবা।

1

প্রথম দিনের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসে প্রথম যাত্রী ছিলেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শতাব্দী। তারপরে তাকে দেখে অন্য মেয়েরাও ছুটে আসে বাসের দিকে। শতাব্দী নিজে আরও মেয়েদের ডেকে নিয়ে আসে বাসে। হাসিমুখে একে একে বাসে উঠে উল্লাসিত মেয়েরা।

সকাল সাড়ে ৬টায় গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। উচ্ছাস তখন শতাব্দীসহ সব শিক্ষার্থীর মাঝে। শতাব্দীর ভাষায়, ‘আমার বন্ধুদের জন্য উচ্ছাসটা অনেক বেশি। আমি আমার বন্ধুদের জন্যই কাজটা করেছি। কারণ তারা অনেক কষ্ট করে স্কুলে যায়। সেজন্য আমার কাছে এই বাস পাওয়ার আনন্দ অনেক।’ নিজের সাহসিকতাকে বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয় শতাব্দীর।

বন্ধুর এমন কর্মে তার প্রতি শুভকামনা জানালো তার সহপাঠী এবং বন্ধুরাও। এই বাসের ব্যবস্থা হওয়ায় এখন আর তাদের স্কুলে যেতে দেরি হবে না, শিক্ষকের কাছে শাস্তিও পেতে হবে না। তাই ভবিষ্যতে শতাব্দী যেনো আরো ভালো কিছু করতে পারে এই কামনা বন্ধুদের।

বিঃ দ্রঃ প্রতিদিন মজার মজার রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি এবং রুপ লাবণ্য টিপস আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে আমাদের দুটি পেজ লাইক দিন!

রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি

মজার রেসিপি/ রুপ লাবণ্য

Share.
[X]