বাংলাদেশ থেকে তিন স্তরে লোক নিয়োগ করবে সৌদি আরব

0
Loading...

সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে তিন স্তরে লোক নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন জেদ্দায় সফররত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার রাতে জেদ্দায় বসবাসরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান।

জেদ্দার সরাফিয়া কানন হোটেলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত গোলাম মসিহ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জেদ্দায় বাংলাদেশ স্কুলের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা যাতে সৌদি আরবে ছোট-খাটো বিনিয়োগ করতে পারেন সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারকে জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে তারা ভেবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সরতাজুল আলম দিপুর পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ জেদ্দার সভাপতি মমতাজ হোসেন চৌধুরী, জেদ্দা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি ইউসুফ মাহমুদ ফরাজী, জেদ্দা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান, জেদ্দা যুবলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম, জেদ্দা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মার্শাল কবির পান্নু, জেদ্দা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাজী আউয়াল প্রমুখ।

এর আগে গত ১৯  নভেম্বর ঢাকায় দু’দিনব্যাপী যৌথ বৈঠক শেষে ১২ দফা যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়  বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষক নেবে সৌদি আরব। দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-সৌদি আরব যৌথ বৈঠকের দ্বিতীয় দিন  রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক ডাক্তার-নার্স ও শিক্ষক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। গত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে তিন বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। বৈঠকে আমরা সৌদি আরবকে এদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। বলেছি, তারা বিনিয়োগ করলে ইকনোমিক জোন করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশটিতে বাংলাদশ থেকে ডিউটি ফ্রি পোশাক, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছি। তারা এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।
প্রায় এক বছর ধরে ওমরা ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে সৌদি সরকার। এ ভিসা খুলে দিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের শ্রম উপমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা দেশে গিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির শ্রম উপমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদ এবং বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন। এদিকে বৈঠকের প্রথম দিন বুধবারও (১৮ নবেম্বর) ওমরা ভিসা ফের চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নেওয়াসহ ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয় সৌদি আরবকে। এরমধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয় প্রতিনিধি দল।
জনশক্তি রফতানি, কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে ২১৭ জন শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার খোলে সৌদি আরব। ক্রমেই এ বাজার বড় হতে থাকে। এক পর্যায়ে দেশটিতে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ শ্রমিক পাঠাতো বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৮ সালে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার লোক কাজের সন্ধানে দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পায়। এরপর তা কমতে থাকে। চলতি বছর প্রায় ৩৭ হাজার লোক নিয়েছে সৌদি আরব। যাদের অধিকাংশই নারী গৃহকর্মী।
বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত আছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব শ্রমিকের অধিকার ঠিকভাবে রক্ষা করা হয় না। প্রথম দিনে বৈঠক শেষে ইআরডি’র দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হওয়ায় জনশক্তি সংক্রান্ত ইস্যুকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। বৈদেশিক সাহায্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া আলোচনায় বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে অশুল্ক বাধা দূর, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ, এলডিসি দেশ হিসেবে শুল্ক সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি বিষয় স্থান পেয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দশম যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ দফা চুক্তি ও একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। ১২ দফা যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশ পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডি’র সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন এবং সৌদী পক্ষে স্বাক্ষর করেন সৌদী প্রতিনিধি দলের নেতা সেদেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদ। এমওইউতে বাংলাদেশ পক্ষে স্বাক্ষর করেন ধর্ম সচিব এবং সৌদী পক্ষে স্বাক্ষর করেন রাষ্টদূত আব্দুল্লাহ বিন হাজ্জাজ আল মুতাইরি।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, উভয়পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠকে সৌদী কর্তৃপক্ষ সেদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার,নার্স ও শিক্ষক নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে উভয়পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশ পক্ষ সেদেশে শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্য প্রবেশের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক,চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য,ওষুধ এবং কৃষিজাত পণ্য। বৈঠকে বিএসটিআই এবং সৌদি স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন(সাসো) এর মধ্যে কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হন। নয়া সৌদি বাদশার বহির্বিশ্বে কৃষি উৎপাদন সহযোগিতার সুযোগ গ্রহণ করতে বাংলাদেশকে অফার দেয়া হলে বাংলাদেশ পক্ষ কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান যাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেইসাথে আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সৌদি খাদ্য ও ড্রাগ অথরিটি বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংশ, মাংশজাত পণ্য, মাছ ও চিংড়ি আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও উভয় দেশের সিভিল এভিয়েশন ও সরকারি সংবাদ সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হন।
উভয়পক্ষ আরো যেসব বিষয়ে আন্তরিতাপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছে তার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, ধর্ম, নিরাপত্তা বিষয়, বেসামরিক বিমান চলাচল, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইটি, ক্রীড়া সংস্কৃতি, পর্যটন ইত্যাদি।
যৌথ কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী বছর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিঃ দ্রঃ প্রতিদিন মজার মজার রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি এবং রুপ লাবণ্য টিপস আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে আমাদের দুটি পেজ লাইক দিন!

রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি

মজার রেসিপি/ রুপ লাবণ্য

Share.
[X]