একটি মেয়ের আত্মকাহিনী

0
Loading...

***একটি মেয়ের আত্মকাহিনী***
.
.
.
আমি এখন I.C.U তে আছি। আজ তিন দিন
হলো, আমি হাসপাতালে পড়ে আছি।
আপনাদের যদি পুরো ঘটনাটা বলতে
যাই, তাহলে আপনাদের ৫ মাস আগে
অর্থাৎ Flashback এ ফিরে যেতে হবে।
.
.
আমি অথৈ। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে
পড়ি। পরিবারের প্রতি একেবারে
উদাসীন! ফ্যামিলির কারো কথাই
পাত্তা দিতাম না! আসলে পরিবারের
ভালবাসাই যে, নিঃস্বার্থ, পবিত্র,
আসল ভালবাসা! সেটা আগে বুঝতাম
না। শুধু বাহিরের ভালবাসা খুঁজে
বেড়াতাম। দেখতে মোটামুটি সুন্দরি
বলেই, অনেক ছেলেরা আমার পিছনে
ঘুরে বেড়াতো! একদম পাত্তা দিতাম
না।
.
এভাবে যখন আমি কলেজে উঠলাম,
কলেজের একটি ছেলে আমাকে
প্রপোজ করলো! আমি স্বভাবতই “না”
বলে দিলাম! ছেলেটার নাম ছিলো
“সাব্বির।”
.
.
ছেলেটা দেখতে ভালই ছিলো। সব
দিক দিয়েই ভাল! তবুও আমি প্রথমে না
বলেছিলাম। এভাবে কিছুদিন চলে
গেল। কিন্তু সাব্বির এর প্রতিদিনই,
কলেজ শেষে আমার পিছনে যেত।
আমি দেখেও না দেখার ভান করতাম।
আমি বুঝতাম, সে আমাকে অনেক
ভালবাসে। এভাবে প্রতিদিনই সে
আমার পিছন পিছন যেত এবং আমাদের
বাড়ির সামনের চায়ের দোকানটায়
বসে, বারান্দার দিকে তাকিয়ে
থাকত। সে জানতো আমি প্রায় সময়ই
এই বারান্দায় বসে থাকি।
বারান্দাটা, আমাদের বাড়ির
দ্বিতীয় তলায় ছিল।
.
এভাবে যখন প্রায় ১ মাস চলে গেল,
তখন আমার মনেও তার জন্যে অনুভূতি
তৈরি হতে শুরু করলো। একদিন
বিকালে সাব্বির যখন সেই চায়ের
দোকানে বসে ছিল, আমি তখন নিচে
যাই। সাব্বিরকে বাড়ির সামনে
আসতে বলি। সে যখন চলে আসলো তখন
আমি বললাম..
.
–প্রতিদিন এই চায়ের দোকানে বসে,
আমাদের বাড়ির বারান্দায় তাকিয়ে
থাকেন কেন?? (রাগত স্বরে)
.
সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে শুধু একটা
কথাই বলল,
>ভালবাসি
.
আমি সেদিন কিছু না বলেই সেখান
থেকে চলে গিয়েছিলাম!
.
এভাবে আরো কিছুদিন পর, কলেজের
ক্যাম্পাসে আমি আমার একটি
বান্ধবীর মাধ্যমে তাকে ডেকে
আনলাম। আমার সামনে এসে সে মাথা
নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। আমি কিছু না
বলেই তাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম! সে
অবাক হয়ে গেল। পরমূহুর্তেই আমাকেও
সে বুকে জড়িয়ে নিল।
.
.
এভাবে আমাদের ভালবাসার
দিনগুলো খুব ভালই যাচ্ছিল। অনেক
ভালবাসতাম তাকে আমি। হয়তো
সেও।
.
কয়েকমাস পর সাব্বির আমাকে একটি
পরিত্যক্ত যায়গায় আসতে বলল!
যেখানে এর পূর্বে আমরা কখনই দেখা
করিনি। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম,
এত এত ভাল জায়গা রেখে সেই
জায়গাটায়ই কেন, সে দেখা করতে
চায়! সে শুধু বলেছিল “সারপ্রাইজ”
আছে!
.
জীবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজটা
আমি সেখানে যাওয়ার পরই পাই! খুব
ভালবাসতাম তাকে! সাথে সমান
বিশ্বাসও করতাম।তাই আর কোনো
কথা না বাড়িয়ে সেখানে চলে
গেলাম।
.
.
নির্দিষ্ট জায়গাটাতে যাওয়ার পর,
একটু দূরেই সাব্বিরকে দেখতে
পেলাম। সে কাছে এগিয়ে এসে
আমার হাত ধরে পিছনের দিকের
একটা বাড়িতে নিয়ে গেল। আমি
কিছু
বলতে যাব, এমন সময় সে বলল..
.
>এখন কোনো কথা বলবে না। বাড়ির
ভিতরে গেলেই সারপ্রাইজটা পাবে।
.
আমিও চুপ করে তার সাথে সাথে চলে
গেলাম। কোনো কথা বললাম না!
.
বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার পর যখন
সে Main Gate টা বন্ধ করে দিল, তখনও
আমি কিছু বলতে গিয়েছিলাম। সে
মুখে আঙুল দিয়ে বলল কোনো কথা না
বলতে।
.
.
সেই মূহুর্তেই আমার জীবনের সবচেয়ে
বড় সারপ্রাইজটা আমি পেলাম! যখন
ভিতরের রুম থেকে আরো কিছু ছেলে
হাসতে হাসতে বের হয়ে এলো এবং
আমি কিছু বলতে যাব এমন সময় আমার
মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে ভিতরের
রুমে নিয়ে গেল।
.
.
জানোয়ার গুলো আমাকে একেবারে
ছিঁড়ে খেল। যেভাবে অনেকগুলো
কুকুর কোনো মাংসের টুকরো পেলে,
যেভাবে ছিঁড়ে খায়!
.
.
খুব কান্না করেছিলাম তখন! চিৎকার
করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।
নরপশুগুলো আমার মুখ চেপে রেখেছিল।
.
যেই সাব্বিরকে এত
ভালবেসেছিলাম, সেই নরপশু
সাব্বিরও আমাকে কুকুরের মতো
ছিঁড়ে খেল!
.
সেইদিন আমার ৩ টা জিনিস নষ্ট
হয়েছিল! আমার বিশ্বাস, আমার
ভালবাসা এবং আমার কুমারিত্ব!
.
.
সেই ঘটনার পর থেকে পুরো স্তব্দ হয়ে
যাই আমি। অনেকবার Suicide করতে
চেয়েছি, ফ্যামিলির লোকজন এসে
বাঁচিয়ে দিয়েছে। শেষবার তো ঘুমের
ঔষধ অনেকগুলো খেয়ে নিয়েছিলাম!
যার ফলস্বরুপ I.C.U তে এখন আছি!
অনেকবার মরতে চেয়েছিলাম!
পরিবারের লোকজন প্রতিবার
বাঁচিয়েছেন!
.
.
যেই পরিবারকে পাত্তাই দিতাম না,
যাদের ভালবাসার কোনো মূল্যই
দিতাম না, তারাই আমার এই সময়ে
আমাকে অনুপ্রাণিত করছেন প্রতি
মূহুর্তে বেঁচে থাকার জন্যে।
.
আসলে তাদের জন্যেই তো আমি
এখনো বেঁচে আছি!
.
.
এখন আবার বাঁচতে ইচ্ছে করে!
পরিবারের মানুষদের জন্যে! এখন
তাদের ভালবাসাকে বুঝি। বাহিরের
ভালবাসার প্রতি এখন ঘৃণা জন্মে
গিয়েছে! এখন আর বাহিরের
ভালবাসা খুঁজে বেড়াই না।
পরিবারের ভালবাসার মধ্যেই তো
প্রকৃত সুখ! তারাই একমাত্র আপনাকে
নিঃস্বার্থ ভালবাসা দিতে পারে,
আর কেউ নয়।
.
আর একটি কথাই শুধু বলবো, “পরিবারের
মানুষদের মূল্যায়ন করতে শিখুন,
তাদের ভালবাসার মূল্যায়ন করতে
শিখুন। কারণ জীবনের প্রতিটি
মূহুর্তেই তারা আপনার পাশে
থাকবেন, একদম ছায়ার মতো। সবাই
আপনাকে ভুলে গেলেও, তারা
আপনাকে কখনো ভুলবে না।”

বিঃ দ্রঃ প্রতিদিন মজার মজার রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি এবং রুপ লাবণ্য টিপস আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে আমাদের দুটি পেজ লাইক দিন!

রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি

মজার রেসিপি/ রুপ লাবণ্য

Share.
[X]