এখনো মায়ের বুকের দুধ জোটেনি শিয়ালের হাত থেকে বাঁচানো সেই নবজাতকের!

0
Loading...

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শিয়ালের আক্রমণ থেকে বাঁচানো পিতৃহীন সেই নবজাতকের বয়স দু দিন হলেও বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না মা। বাচ্চাটি দেখেই আঁৎকে উঠছেন তিনি। চিৎকার করে বলেছেন, এ বাচ্চা তার নয়।

এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের নিজমাওহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় পুত্রসন্তানের জন্ম দেন এক তরুণী। রাতেই স্কুলের উন্মুক্ত বারান্দায় নবজাতকের ওপর শিয়াল হানা দেয়। তখন শিয়ালকে তাড়া করে নবজাতককে রক্ষা করে একটি কুকুর।

children_34043_1481974918

মধ্যরাতে কুকুরের উচ্চস্বরে ‘ঘেউ ঘেউ’ শব্দ গ্রামবাসী অন্য দিনগুলোর মতো স্বাভাবিকভাবেই নেন। এজন্য কেউ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। শনিবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. লাল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান নবজাতক একটি শিশু ও প্রসূতি মা স্কুলের ফ্লোরে পড়ে রয়েছেন। রক্ত শুকিয়ে ফ্লোর লাল হয়ে গেছে।

এ দৃশ্য দেখে চিৎকার করতে থাকেন লাল মিয়া। তার চিৎকারে ছুঁটে আসেন প্রতিবেশী উকিলের মা। তিনি নবজাতক বাচ্চাটির নাড়ি কেটে কোলে তুলে নেন। এ অবস্থায় তিনি প্রসূতী মাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসারও ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে- রাতে নবজাতক বাচ্চাটিকে নিয়ে যেতে শিয়ালের দল কয়েকবার হানা দিয়েছিল। কিন্তু কুকুরের তাড়া খেয়ে নিতে পারেনি। আমি নিজেও সকালে বিদ্যালয়ের পেছনে শিয়াল ঘুরতে দেখেছি।’

অবিবাহিত ওই তরুণী পেশায় ভিক্ষুক। ভিক্ষা করতে গিয়ে একাধিবার নরপশুদের দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভধারণ করেছেন বলে জানান তিনি।

গলায় একটি কালো দাগ দেখিয়ে তিনি বলেন, পেটের আকৃতি বড় হয়ে যাওয়ায় তার ভাবি গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, যার চি‎হ্ন এখনও রয়েছে। এজন্য বাড়ি থেকে পালিয়েছেন তিনি।

প্রসূতী নারী নিজেকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিলেও তার ঠিকানামত স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর নেয়া হলে এ সত্যতা মেলেনি।

তিনি জানান, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর গত চার বছর আগে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ভিক্ষাবৃত্তিতে নামেন।

তরুণী তার পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিলে বলেন, সিলেটে ভিক্ষা করতে গিয়ে প্রথম নির্যাতনের শিকার হন। সেখানে চার তরুণ একটি বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে। এরপর বেশ কয়েকবার নির্যাতনের শিকার হন তিনি যার ফলে গর্ভধারণ করেন।

তিনি বলেন, ওই অবস্থায় বাড়িতে গেলে, বিয়ের আগে গর্ভধারণ করায় তার এক ভাবি তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন তিনি। এরপর শুরু হয় তার ভাসমান জীবন।

এদিকে শিয়ালের হাত থেকে নবজাতককে বাঁচানোর খবর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে রোববার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন স্বপন। তিনি শিশুটির জন্য দুধ, নতুন পোশাক ও ওই তরুণী মায়ের জন্য ওষুধসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনে দেন।

অন্যদিকে রোববার বিকেলে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নবজাতক ও মাকে চিকিৎসা, আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতা দেন।

বিঃ দ্রঃ প্রতিদিন মজার মজার রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি এবং রুপ লাবণ্য টিপস আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে আমাদের দুটি পেজ লাইক দিন!

রান্নাকরার অসাধারন সব রেসিপি

মজার রেসিপি/ রুপ লাবণ্য

Share.
[X]